আইজিপি’র কাছে বিএনপির অনুরোধ

রাজনৈতিক নিউজ সারাদেশ নিউজ

খালেদা জিয়ার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশের আইজিপি’র কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে একথা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘ ২৫ মাস বিনা দোষে কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি গুলশানস্থ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। এমতাবস্থায় তার নিরাপত্তার জন্য চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আইজি বরাবরে আবেদন করলেও এবিষয়ে এখনও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশের আইজিপি’র নিকট অনুরোধ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে ১৭৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক পর্যায়ে সংক্রমিত হচ্ছে বলে স্বীকার করলেও তা মৃদু মাত্রায় রয়েছে বলে দাবী করেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকার বলছে-সবকিছু নিয়ন্ত্রণে, পশ্চিমা মিডিয়া বলছে-আগামী দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের গণমাধ্যমও এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। মৃত্যু হানা দিচ্ছে দেশে দেশে। আর করোনা যদি এখনি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে।’


রিজভী বলেন, ‘পরীক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা-হঠাৎই বাড়তে পারে ভয়াবহতা। সেক্ষেত্রে লকডাউন চালিয়ে যাওয়া, আরও বেশি বেশি টেষ্ট করে পজেটিভ রোগী খুঁজে আইসোলেশনে নিয়ে আসা কাজে আসতে পারে।’


তথ্য গোপন করে এই মহামারী এড়ানো যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সঠিক তথ্য দিয়ে এই রোগের ভয়াবহতা বুঝিয়েই জনগণকে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ, সুরক্ষা ও প্রতিকারে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিয়ে মানুষের আস্থা তৈরি করা উচিত। সরকারের তথ্য গোপন পলিসির সমালোচনা করার কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত কয়েকদিনে বিএনপির ১২ নেতাকর্মী ও চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে রোগের পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে দেশে পরীক্ষা নিয়ে নানা জটিলতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিংবা সরকারী পরিসংখ্যানের আপডেট এখন কেউ আর বিশ্বাস করছে না। অন্ধ হলেই কি বন্ধ হবে প্রলয়!’

এই সংকটময় সময়ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে আসেনি, সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘কাদের সাহেবকে আমি বলতে চাই-গণতন্ত্রকে যাদুঘরে পাঠিয়েছেন বলেই সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরাকে অপতৎপরতা হিসেবে অভিহিত করছেন। সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে সমালোচনা করাকে প্রকৃত গণতন্ত্রে অপতৎপরতা হিসেবে গণ্য করে না। আপনাদের গণতান্ত্রিক মানস নেই বলেই সমালোচনা শুনলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই মহাদুর্যোগে যখন মানুষ জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে তখন ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্য বিভাজন ও বিভেদেরই প্রতিফলন। কি কারণে যেন আপনারা সমালোচনার শঙ্কায় অস্থির থাকেন।’


ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধ বা মোকাবেলায় বাংলাদেশ যদি এতটাই সক্ষম হতো তাহলে ইউরোপিয়ান, আমেরিকান ও জাপানীরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন কেনো? আমার প্রশ্ন তিনি কোয়ারেন্টাইনে থেকে কি বিএনপির সমালোচনা ছাড়া কিছুই বোঝেন না? যখন করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলো তখন আমরাই রাজপথে নেমেছি, সারাদেশের সর্বত্রইা প্রথম সচেতনতা শুরু করেছি। আমরা এবং আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই দুঃসময়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শ্রেণী-পেশার সংগঠন অর্থাৎ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করার আহবান জানিয়েছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সকল ভেদাভেদ ভুলে এখন সকলের একজোট হওয়ার সময়। আমাদের দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সারাদেশে যে যেভাবে পারছেন দলের নির্দেশ অনুযায়ী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশের প্রতিটি দুঃসময়ে জনগণের পাশে থেকেছে এবং আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *