সুখের চাদরে দুঃখে মুড়ানো এক দুখু মিয়ার গল্প

অন্যান্য

জামালপুর নিউজ২৪ডটকম প্রতিনিধি: এই সেই যুৎসই ছেলেটির নাম সাজেদুল ইসলাম (সাজেদ)। তিনি আমেরিকা প্রবাসী।ডাকনাম দুখু মিয়া।জন্ম ১৯৯৫ সালে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের গুনারীতলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।পরিবারের ২ ভাই ১ বোনের মধ্যে তিনি মেঝো। শৈশব কিশোরে দুরন্ত ও ডানপিটে স্বভাবের ছেলে ছিলেন।কেউ বিপদে পড়লেই সহযোগীতা করতেন। কোনো কাজ শুরু করলে তার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছিলেন নাছোড়বান্দা। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত।২০১৯ সালে তিনি মোছাঃজিনিয়া ইসলামের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।তারা এখনও ডাবলই আছেন ইনডাবল হননি এখনও।তার প্রিয় অভিনেতাঃআফরান নিশো,প্রিয় অভিনেত্রীঃমেহজাবিন চৌধুরী,প্রিয় শিল্পী :ইমরান,প্রিয় লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ,প্রিয় খেলাঃফুটবল প্রিয় দলঃআর্জেন্টিনা,প্রিয় প্লেয়ারঃলিওলেন মেসি,প্রিয় বন্ধুঃ রাকিবুল ইসলাম লেমন
প্রিয় খাবারঃগরুর গোশত,ইলিশ মাছ,শুটকি মাছের চড়চড়ি,আলু ভর্তা ডাল,চটপটি।
প্রিয় শখঃছবি উঠানো, ছবি তুলা,গান শুনা,লেখালেখি করা,বাইক চালানো, প্রাইভেটকার চালানো ও অনলাইনে-অফলাইনে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া ও স্ট্যাটাস দেওয়া ইত্যাদি।তিনি অসহায় হতদরিদ্রদের নিয়ে সব সময় ভাবেন তাদের জন্য তাঁর মন সব সময় কাঁদে একারনে তিনি বেশ কয়েকটা সেবা সংগঠনের সাথেও যুক্ত আছেন। তার মাঝে উল্লেখ্যযোগ্য আদর্শ বন্ধু মহল সংগঠন ও বীরলোটাবর সেবা সংঘ নামের দুটি সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত আছেন।
এ ছাড়াও আরও বিভিন্নভাবে তিনি দান-খয়রাত করে থাকেন।যেমন ধর্ম সভায় গরীব দুঃখীদের চিকিৎসাবাবদ বিবাহবাবদ ইত্যাদি।তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন তিনি এতিমখানা,বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করা সেই সাথে রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা জাতের প্রচুর পরিমান বৃক্ষরোপণ করা।এতে করে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা পাবে ফুল ফল ও শীতল ছায়া।মোট কথা একজন মানুষ হয়ে মানুষদের জন্য কিছু একটা করা।আর উপরের যে নামটা দুখু মিয়া তার ডাকনাম।এই দুখু মিয়া নাম হওয়ার পিছনে একটা কারনও আছে।সাজেদুল ইসলাম যখন তার মায়ের গর্ভে যখন ৬-মাস বয়স তখন তার পিতামহ এই দুনিয়া থেকে না ফেরার দেশে চলে যায়।তাই তার আপনজনরা তার নাম রাখেন দুখু মিয়া।মা জীবিকার তাগিদে দুখু মিয়া কে খুব ছোট রেখেই ঢাকা শহরে চাকরি করেন এবং পরবর্তীতে ২০০৪ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান।তাই মায়ের আদর খুব বেশি একটা জুটেনি দুখু মিয়ার কপালে। বাবাকেও হারিয়েছেন জন্মের পূর্বে!দুখু মিয়া মা বলতে ‘নানী’ কেই বুঝতেন।তাই শৈশব,কৈশোর,যৌবন সবকাটে তার নানীর বাড়ীতেই।দুখু মিয়া ওরফে আমেরিকা প্রবাসী সাজেদুল ইসলামের জীবনের গল্পের শুরুটা সিনেমার মত হলেও এটাই বাস্তব। যাইহোক,এই দুখু মিয়া বাড়ীর পাশেই চরবন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন। এরপর গুনারীতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে এসএসসি সম্পন্ন করেন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে সরকারী আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্নাতক সম্পন্ন না করেই ২০১৫ সালে মায়ের কাছে আমেরিকাতে পাড়ি জমান।তিনি সেখানে একটি গ্যাস স্টেশনে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।
বর্তমানে তাঁর প্রতিদিনের রুটিন কাজ করা খাওয়া-দাওয়া গোসল ঘুম।চাইলেও অবসর সময়ে আড্ডা দিতে পারেন না।কারন আমেরিকাতে তার কোন দেশি বন্ধু-বান্ধব নেই।বউও থাকেন বাংলাদেশে।বাবাকেউ হারিয়েছেন জন্মের পূর্বেই। বাবা কি জিনিস তিনি জানেনও না!বাবা ডাকার স্বাদ কেমন তিনি জানেন না।বাবার আদরের স্বাদ কেমন তিনি পাননি।মাস গেলে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করলে মনে তার একটা অভাব সব সময়ই থাকে।সব আছে তবুও কি যেন নাই কি যেন নাই হাহাকারে ভুগেন তিনি।বাবা নেই পাশে বউ নেই,কাছের বন্ধুরা নেই।
কাজ কাম,খাওয়া,ঘুম,এই তিন কথার উপরেই চলে সাজেদ এর দৈনন্দিন জীবন এটাকে জীবন না বলে যান্ত্রিক রোবট ও বলা চলে।আমেরিকা মত একটা দেশে থেকেও সাজেদুল ইসলাম অসুখী মাসে লাখ লাখ টাকা তাকে সুখ এতে দিতে পারে না মনে।তাই
এ গল্পের নাম-সুখের চাদর মুড়ানো দুঃখের গল্প বলাই চলে।
বিঃদ্রঃ টাকাই মানুষকে সব সুখ এনে দিতে পারে না। মনে রাখবেন টাকা দিয়ে সব হয় না আবার টাকা ছাড়াও কিছু হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *